নিয়ম শিথিল না হলে বৃহৎ জলবায়ু জোট থেকে সরে যাবে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তন-পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগের মাঝে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপে সংকট তৈরি করেছে। খবর এফটি।
সম্প্রতি জেপি মরগান, সিটি গ্রুপ ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো মার্কিন শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিট জিরো ব্যাংকিং অ্যালায়েন্স (এনজেডবিএ) থেকে বেরিয়ে গেছে। এরপর ইউরোপের শীর্ষ ঋণদাতারা নিজেদের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার কানাডার চারটি বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এ জলবায়ু জোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এছাড়া পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে গ্লাসগো ফাইন্যান্সিয়াল অ্যালায়েন্স ফর নিট জিরো (জিএফএএনজেড) নামের আমব্রেলা জোটে কিছু ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জোটের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা দাভোস সম্মেলনের আগে জলবায়ু সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠক আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছেন।
সময়সূচি নিয়ে জটিলতা, প্রতিযোগিতাবিরোধী আইনসংক্রান্ত উদ্বেগ ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে বৈঠক না হওয়ার কারণ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চার বছর আগে চালু হওয়া জিএফএএনজেডের প্রধানরা সাধারণত প্রতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মিলিত হন। এ গ্রুপে রয়েছেন এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী জর্জ এলহেদারি, ডয়েচে ব্যাংকের ক্রিশ্চিয়ান সিউইং ও ইউবিএসের সার্জিও এরমোটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী রাজনীতিকরা সামাজিক ইস্যুতে অবস্থান নেয়া কোম্পানি নীতিগুলোর বিরোধিতা জোরদার করেছেন। সম্প্রতি ২২ জন রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিতে অর্থায়ন বন্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ এনেছেন।
ব্যাংক খাতের মতো জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপকদের মাঝেও বিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে। এ খাতের ক্লাব নিট জিরো অ্যাসেট ম্যানেজারস ইনিশিয়েটিভ সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা সদস্যপদের মানদণ্ডের ব্যাপারে তদারকি বন্ধ করবে এবং তা এখনো প্রাসঙ্গিক কিনা তা পর্যালোচনা করবে। চলতি মাসে বহুজাতিক বিনিয়োগ সংস্থা ব্ল্যাকরক এ উদ্যোগ থেকে বেরিয়ে গেছে। এর আগে ২০২২ সালে সরে গিয়েছিল ভ্যানগার্ড।
অন্যদিকে এনজেডবিএ বলেছে, তারা পরিচালন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৌশলগত অগ্রাধিকারের বিষয়ে সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করবে।
অ্যাসেট ম্যানেজার গ্রুপের একজন স্বাক্ষরকারী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তারা এখন সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নয়। কারণ দেশটিতে অ্যান্টিট্রাস্ট ও অন্য কিছু বিষয়ে মামলার সম্মুখীন হচ্ছে সংস্থাগুলো। চলতি সপ্তাহে ব্ল্যাকরকের বিরুদ্ধে একটি মামলা প্রত্যাহার করেছে টেনেসি অঙ্গরাজ্য। যেখানে ১১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারের এ সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং প্রতিযোগিতা আইন বা অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দূর করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্য নিট জিরো লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদ্যোগকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে সমর্থন করে না। টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা জোটগুলো অবৈধভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষতি করছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জোটভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মামলার ঝুঁকি এড়াতে অত্যন্ত সতর্ক।
জেএফএএনজেডের সঙ্গে যুক্ত এক ইউরোপীয় নির্বাহী জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলো মামলা নিয়ে খুবই চিন্তিত। এখানকার ব্যাংকগুলো সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপের কয়েকটি ব্যাংক বলেছে যে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইনিশিয়েটিভের মতো ব্যবস্থা না নিলে তারাও নিট জিরোর উদ্যোগ থেকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
জিএফএএনজেড ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বেন ক্যালডেকট। তবে জিএফএএনজেড বলেছে যে তারা নিট জিরোতে স্থানান্তরের জন্য সক্ষম একটি আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করার প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করেছে। চলতি মাসে সংগঠনটি বলেছে যে তারা নিট জিরো গোষ্ঠীগুলোর জন্য আর ‘আমব্রেলা’ হিসেবে কাজ করবে না। এর বদলে জ্যেষ্ঠ অর্থায়নকারী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সবুজ রূপান্তরে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে।